সংক্ষেপে মূল তথ্য
- দিল্লির বিকানের হাউসে নিজের একক প্রদর্শনী শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ১০৫টি ছবির মধ্যে ৭৪টি সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ছেলে রাইহান ভাদ্রা।
- সরানো ছবির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকার ছবিও।
- প্রিয়াঙ্কা এই পদক্ষেপকে "হাস্যকর" বলেছেন, তবে ভেন্যু কর্তৃপক্ষের দাবি, ছবিগুলো তাদের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
নিজের প্রথম একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বড় ধাক্কা খেয়েছেন ভারতের কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রার ছেলে রাইহান ভাদ্রা (২৬)। তার অভিযোগ, দিল্লির বিকানের হাউসে "নো আইডিয়া ইজ ফাইনাল" শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্বোধনের আগে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ তাকে ১০৫টি ছবির মধ্যে ৭৪টি সরিয়ে ফেলতে বা বদলে ফেলতে বলেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রদর্শনীটি উদ্বোধনের কথা ছিল। সেদিন বিকেল সাড়ে তিনটায় লিখিত আপত্তি পৌঁছায় তার কাছে, আর ছবি সরাতে সময় দেওয়া হয় মাত্র ৩০ মিনিট।
রাইহানের ভাষ্য অনুযায়ী, সরানো ছবিগুলোর বেশিরভাগই ছিল সম্প্রতি দিল্লিতে হওয়া ছাত্র ও যুব বিক্ষোভের দৃশ্য। তাকে বলা হয়েছিল, ছবিগুলোর "সময় ও প্রেক্ষাপট" ঠিক নয় এবং সেগুলো মাত্রাতিরিক্ত রাজনৈতিক। সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে জাতীয় পতাকা তিরঙ্গার দুটি ছবি নিয়ে। রাইহান বলেছেন, পতাকার ছবি সরাতে বলায় তিনি বিস্মিত হন এবং নিজে সেগুলো সরাতে অস্বীকার করেন। তার দাবি, তিনি প্রাঙ্গণ ছেড়ে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষের কর্মীরা নিজেরাই একটি পতাকার ছবি নামিয়ে ফেলেন। সরিয়ে ফেলা ছবির জায়গায় তার দল খালি ফ্রেম টাঙিয়ে দিলে সেগুলোতেও আপত্তি তোলা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
উদ্বোধনের সময় প্রদর্শনীতে টিকে ছিল মাত্র ৩৫টির মতো কাজ। চারটি ভাগে সাজানো এই প্রদর্শনী চলবে রোববার (২৫ অক্টোবর) পর্যন্ত। টিকে যাওয়া কাজের মধ্যে রয়েছে বন্যপ্রাণীর ছবি, বিমূর্ত কাজ আর বিক্ষোভের কিছু ছবি। রাইহান জানিয়েছেন, ভেন্যুর নীতিমালা মেনে যেসব ছবিতে সরাসরি রাজনৈতিক স্লোগান ছিল, সেগুলো তিনি আগেই সরিয়ে রেখেছিলেন। পুরো সংগ্রহটি অন্য কোনো ভেন্যুতে প্রদর্শনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এই পদক্ষেপকে "হাস্যকর" বলে মন্তব্য করেছেন। তার অভিযোগ, সারা দেশে তরুণদের কণ্ঠ রুদ্ধ করার চেষ্টা চলছে, এই ঘটনা তারই অংশ। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ক্ষমতাবান কেউ অন্যের মতপ্রকাশে ভয় পেলে সে আসলে নিজের ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলে, যদিও তা নিজে বুঝতে পারে না। ছেলের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, তিনি সবসময় রাইহানকে নিয়ে গর্বিত।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিবৃতি দিয়ে বিকানের হাউস ম্যানেজমেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, রাইহানের প্রদর্শনীর কিছু ছবি তাদের নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পাওয়া গেছে, তাই সেগুলো সরানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। নীতিমালার সঙ্গে মেলে এমন ছবিগুলো প্রদর্শনীতে রয়ে গেছে বলেও জানানো হয়েছে। বিকানের হাউসের কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এই ভেন্যুর প্রদর্শনীগুলো মূলত সংস্কৃতি ও বন্যপ্রাণীকেন্দ্রিক, আর সরানো ছবিগুলোতে ছিল রাজনৈতিক বার্তা। রাজস্থান সরকার পরিচালিত এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রাইহান এর আগেও একাধিকবার প্রদর্শনী করেছেন।
ঘটনাটি ঘিরে ভারতের শিল্প ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, একটি সরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নীতিমালার নামে শিল্পীর মতপ্রকাশে হস্তক্ষেপ করতে পারে কিনা। তবে কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, বুকিংয়ের শর্ত মেনে চলা সব প্রদর্শনীর জন্যই বাধ্যতামূলক।