এই বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল কলেজের কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি অ্যান্ড এন্ডোডন্টিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মানজুমা আকতার জাকারিয়া।
সাধারণত পাঁচ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। টুথপেস্টে পেস্টের ঘনত্ব বা ওজন বাড়াতে এবং দাঁত পরিষ্কার ও পালিশের অনুভূতি তৈরি করতে কিছু সিনথেটিক পলিমার বা প্লাস্টিক বিড ব্যবহার করা হয়।
শরীরে প্রবেশের মাধ্যম: দাঁত ব্রাশ করার সময় অসাবধানতাবশত অল্প পরিমাণ পেস্ট গিলে ফেললে এই প্লাস্টিক কণা শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে পেস্ট গিলে ফেলার প্রবণতা বেশি থাকে।
সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি: আন্তর্জাতিক গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের প্রজননস্বাস্থ্য, পরিপাকতন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে সরাসরি মানবদেহে এর প্রভাব নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই বিষয়ে আতঙ্কিত না হয়ে কেনার সময় কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত:
উপাদানের তালিকা দেখা: টুথপেস্টের মোড়কে পলিইথিলিন (PE) বা পলিপ্রোপাইলিন (PP)-এর মতো সিন্থেটিক পলিমারের উপস্থিতি আছে কি না দেখে নেওয়া।
উপযোগী ফ্লুরাইড মাত্রা: বয়স্কদের জন্য সাধারণত ১০০০–১৫০০ পিপিএম (PPM) ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট নির্বাচন করা উচিত।
নিরাপদ অ্যাব্রেসিভ: হাইড্রেটেড সিলিকা বা ক্যালসিয়াম কার্বোনেট যুক্ত টুথপেস্ট দাঁতের জন্য নিরাপদ।
শিশুদের তদারকি করা: ছোট বাচ্চারা যেন ব্রাশ করার সময় টুথপেস্ট গিলে না ফেলে সেদিকে খেয়াল রাখা এবং পরিমাণের বেশি পেস্ট ব্যবহার না করা।
জাতীয় মানদণ্ডে মাইক্রোপ্লাস্টিক সংক্রান্ত নির্দেশনা যুক্ত করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। ভোক্তাদের শুধু 'হাতে তৈরি' বা 'ন্যাচারাল' লেখা দেখেই বিভ্রান্ত না হয়ে বিএসটিআই অনুমোদিত ও উপাদানের তালিকা স্পষ্ট লেখা থাকা পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন