নওগাঁ শহরে একই দিনে রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করে দুটি বড় ধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটানো সংঘবদ্ধ ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার (২৮ জুন) দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া স্বর্ণের একটি অংশ গলানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৩ জুন নওগাঁ সদর এলাকায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক প্রতারণার ঘটনা ঘটে:
প্রথম ঘটনা: সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহরের চুড়িপট্টি এলাকায় ফাতেমা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধাকে টার্গেট করে চক্রটি। রাসায়নিক স্প্রে দিয়ে তাকে অচেতন করে একটি রিকশায় তুলে নেওয়া হয়। এরপর তার গলার চেইন, কানের দুল ও নগদ ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ডিগ্রির মোড় এলাকার একটি ডাম্পিং জোনে ফেলে পালিয়ে যায় তারা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ জুন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই বৃদ্ধা মারা যান।
দ্বিতীয় ঘটনা: একই দিনে এক বৃদ্ধ দম্পতি ছেলের বাড়ি যাওয়ার পথে নওগাঁ-ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই চক্রের খপ্পরে পড়েন। তাদের একটি নকল স্বর্ণের বার দেখিয়ে প্রলোভন দেওয়া হয় এবং পরে রাসায়নিক স্প্রে দিয়ে সম্মোহিত করে প্রায় ছয় আনা ওজনের একজোড়া কানের দুল হাতিয়ে নেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর নওগাঁ সদর মডেল থানায় দুটি পৃথক মামলা হলে জেলা পুলিশ ও ডিবির (DB) সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়।
শনিবার (২৭ জুন) গভীর রাতে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে একযোগে অভিযান চালিয়ে গাইবান্ধার আব্দুল হাই, এরশাদ আলী, বাবলু এবং দিনাজপুরের মো. কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চোরাই স্বর্ণ কেনার অপরাধে নওগাঁ স্বর্ণপট্টির ‘মুহিব জুয়েলার্স’-এর ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়। জাহাঙ্গীর জানান, কানের দুলটি তিনি ইতোমধ্যে গলিয়ে ফেলেছেন। পরবর্তীতে তার কাছ থেকে চার আনা গলানো স্বর্ণ উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, এই চক্রের সাথে আরও ২-৩ জন জড়িত রয়েছে এবং বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে। তিনি সাধারণ মানুষকে অপরিচিত কোনো ব্যক্তির কথায় বা প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন