
রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় শ্লীলতাহানির শিকার হওয়া ২৩ বছর বয়সি এক তরুণী অভিযোগ করেছেন যে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও পুলিশ তাঁকে কোনো ধরনের সহায়তা করেনি। বাধ্য হয়ে তিনি নিজের নিরাপত্তায় এক স্বজনকে ডাকেন। কিন্তু আত্মরক্ষা করতে গিয়ে উল্টো তাঁর সেই স্বজনকে আটক করে পুলিশ এবং পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাঁকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বুধবার রাতে প্রথম আলোকে পাঠানো এক লিখিত বার্তায় ভুক্তভোগী তরুণী এই প্রশ্ন তোলেন যে, তাহলে কি নিজেকে রক্ষা করার অপরাধ তারই হলো?
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ধানমন্ডিতে প্রকাশ্যে হেনস্তার শিকার হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাননি ওই তরুণী। এই চরম বিপদের মুহূর্তে নিজের সুরক্ষার জন্য তিনি পরিবারের এক সদস্যকে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উল্টো তরুণীর রক্ষায় এগিয়ে আসা স্বজনকে ধরে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তাঁকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পুলিশের এমন ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তরুণী তাঁর লিখিত বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ আমাদের কোনো সাহায্য করেনি। উল্টো নিজেকে রক্ষা করার অপরাধে আমার স্বজনকে ধরে নিয়ে গিয়ে সাজা দেওয়া হলো। তবে কি নিজেদের রক্ষা করাও এখন অপরাধ?
এই ঘটনাটি নাগরিক নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলেছে। যেখানে একজন নারী প্রকাশ্য স্থানে হয়রানির শিকার হওয়ার পর পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার মুখোমুখি হন, সেখানে সাধারণ মানুষের আইনি সুরক্ষা পাওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে সাহায্যকারী স্বজনকে কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েও তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বর্তমানে এই ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী তরুণীর এই আকুল ও ক্ষুব্ধ প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।