বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, বরেণ্য চিত্রশিল্পী এবং পাপেট থিয়েটারের স্থপতি মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগে তিনি ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমিয়েছেন অনন্তলোকে। তাঁর এই মহাপ্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো এবং চারদিকে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'একুশে পদক'-এ ভূষিত করেছিল।
চিত্রকলা, টেলিভিশন নাট্যনির্মাণ এবং পাপেট শিল্পকে বাংলাদেশে জনপ্রিয় করার পেছনে মুস্তাফা মনোয়ারের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে:
বাংলাদেশে পুতুলনাচ বা পাপেট শিল্পকে আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মূল কারিগর ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। তাঁর হাত ধরেই দেশের শিশু-কিশোররা পাপেটের মাধ্যমে আনন্দ ও শিক্ষার এক নতুন দিগন্তের সন্ধান পেয়েছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠানগুলোতে তাঁর তৈরি পাপেট চরিত্রগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে দাগ কেটে গেছে।
মুস্তাফা মনোয়ার কেবল একজন পাপেট শিল্পীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন প্রথম সারির চিত্রশিল্পী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের (বর্তমান চারুকলা অনুষদ) শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বহু যোগ্য শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হিসেবেও তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
গুণী এই শিল্পীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের শিল্প ও সাংস্কৃতিক মহলে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও ভক্তরা গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন। অনেকেই বলছেন, তিনি তাঁর অনন্য সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিটি সংস্কৃতিমনা মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
মহান এই শিল্পীর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করি। ওপারে ভালো থাকুন, শ্রদ্ধেয় শিল্পী।
মন্তব্য করুন