চার দশক পেরিয়ে গেছে। বলটির চামড়া জীর্ণ, বাতাসও বেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। মাঠে গড়ানোর কোনো অবস্থাই আর নেই। কিন্তু তাতে কী! এটি যে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আইকনিক, বিতর্কিত এবং জাদুকরী মুহূর্তের নীরব সাক্ষী।
ফুটবল ঈশ্বর খ্যাত দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’—এই দুই গোলেরই সাক্ষী সেই ঐতিহাসিক বলটি এবার নিলামে উঠছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, স্পোর্টস মেমোরাবিলিয়ার বাজারে এর দাম আকাশ ছুঁয়ে প্রায় ১২৫ কোটি টাকা (১ কোটি মার্কিন ডলার) পর্যন্ত উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বনামধন্য নিলাম প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ অকশনস বহুল কাঙ্ক্ষিত এই বলটির নিলাম প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে।
নিলাম শুরু: আগামী ২১ আগস্ট।
বিজয়ীর নাম ঘোষণা: ২৩ আগস্ট।
ভিত্তিমূল্য: নিলামের শুরুতে এর দাম ধরা হয়েছে ২৫ লাখ মার্কিন ডলার।
প্রত্যাশিত মূল্য: অন্তত ১ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৫ কোটি টাকা)।
হেরিটেজ অকশনসের ক্রীড়া বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান ইমলার এই বলটিকে ফুটবল ইতিহাসের "সবচেয়ে স্মরণীয় বলগুলোর মধ্যে সবার ওপরে" বলে আখ্যায়িত করেছেন।
১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের সেই মহারণে ব্যবহৃত হয়েছিল অ্যাডিডাসের তৈরি ‘অ্যাজটেকা’ মডেলের এই বলটি। এটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম কৃত্রিম উপাদানে তৈরি অফিসিয়াল ম্যাচ বল। ম্যাচের পর থেকে দীর্ঘকাল এটি তিউনিসিয়ান রেফারি আলি বিন নাসের নিজের কাছে সযত্নে সংরক্ষণ করেছিলেন।
ম্যারাডোনার স্মারক নিয়ে ক্রেতাদের উন্মাদনার নজির আগেও বহুবার দেখেছে বিশ্ব:
আগের নিলাম: ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ চলাকালে এই একই বল প্রথমবারের মতো নিলামে উঠেছিল। তখন এক অজ্ঞাতপরিচয় ক্রেতা ২৩ লাখ ৭০ হাজার ডলারে এটি কিনে নিয়েছিলেন।
বিখ্যাত সেই জার্সি: ২০২২ সালে ওই একই ম্যাচে পরা ম্যারাডোনার বিখ্যাত নীল-সাদা জার্সিটি বিক্রি হয়েছিল রেকর্ড ৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে!
অন্যান্য ক্রীড়া স্মারক: বর্তমানে সব ধরনের ক্রীড়া স্মারকের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যের রেকর্ডটি ১৯৫২ সালের বেসবল কিংবদন্তি মিকি ম্যান্টলের একটি কার্ডের দখলে, যা ২০২২ সালে ১ কোটি ২৬ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল।
ফুটবলের আবেগ, বিতর্ক আর শিল্পের চূড়ান্ত প্রতীক হয়ে ওঠা ম্যারাডোনার সেই জীর্ণ বলটি এবার নতুন কোনো ইতিহাস রচনা করে আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে কি না, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর পুরো ক্রীড়া বিশ্বের।
মন্তব্য করুন