দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
Mohammad Sujan
প্রকাশ : Jul 24, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পদত্যাগপত্রে উল্লেখিত ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ কী? জানুন সাহাবুদ্দিনের জটিল রোগ সম্পর্কে

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। নিজের পদত্যাগপত্রে তিনি যে পাঁচটি শারীরিক জটিলতার কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ (Autonomic Neuropathy)

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি জটিল ও বিরল স্নায়বিক রোগ। এই রোগটি মূলত শরীরের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা মানুষের হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হজমপ্রক্রিয়ার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

পদত্যাগপত্রে কী বলেছেন সাহাবুদ্দিন? পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, এই জটিল রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝেই হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বা অচেতন হয়ে পড়েন। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনির মতো নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। এমনকি তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারিও সম্পন্ন হয়েছে। এসব বহুমুখী শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণেই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।

অটোনমিক নিউরোপ্যাথি কী ও কেন হয়? বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এটি এমন একটি স্নায়বিক সমস্যা, যেখানে শরীরের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এই রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন অটোইমিউন রোগ, স্নায়বিক দুর্বলতা, সংক্রমণ বা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেও মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

এই রোগের প্রভাবে রোগীর রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের মতো মারাত্মক লক্ষণ দেখা দেয়। পাশাপাশি হজমে সমস্যা, অতিরিক্ত বা কম ঘাম হওয়া এবং মূত্রত্যাগে জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা অটোনমিক নিউরোপ্যাথির সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী কোনো চিকিৎসা নেই। চিকিৎসকদের মূল লক্ষ্য থাকে রোগের মূল কারণ শনাক্ত করে তা নিয়ন্ত্রণ করা এবং রোগীর কষ্ট লাঘব করা। বিশেষ করে ডায়াবেটিসের কারণে এই রোগ হলে রক্তে শর্করার মাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা অপরিহার্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগটি দীর্ঘমেয়াদি হলেও সঠিক সময়ে শনাক্ত করা গেলে নিয়মিত ওষুধ সেবন, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, পর্যাপ্ত পানি পান এবং জীবনধারার উন্নয়নের মাধ্যমে রোগীকে অনেকটা স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত করা সম্ভব। তবে পরিস্থিতি গুরুতর হলে বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা রক্তচাপের বড় ধরনের ওঠানামা রোগীর দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মামুন খালেদ ও মাসুদ চৌধুরীকে ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে হাজির কর

1

গুগল সার্চে তোলপাড়: ‘চোরের দলের খেলা কবে’ লিখে খুঁজলেই যা দে

2

যুদ্ধের বাজারে তেলের আয়ে ফুলেফেঁপে উঠছে ইরান: প্রতিদিন আয় ১৩

3

বহুল প্রতীক্ষিত প্রাথমিক বৃত্তির ফলাফল আজ, জেনে নিন বিস্তারি

4

এপ্রিলের আগেই প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষের নির্দে

5

পাবনা সফরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৬ | সফরসূচি ও বিস্ত

6

ছয় মাসে শীর্ষ ১০ কোম্পানির বাজার মূলধন বাড়ল ৯,৫৫৫ কোটি টাকা

7

রিজিক ও কর্মপ্রচেষ্টা: ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি

8

বিদ্যুৎমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য: এমপি আমির হামজার

9

নতুন বেতন কাঠামো: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, জুলাইয়েই গ

10

দুবাইয়ে গ্রেফতার বেনজীর আহমেদের জামিন আবেদন ও পরবর্তী আইনি প

11

নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ চালুর ঘোষণা

12

প্রাইমারি বৃত্তিতে কুড়িগ্রামের তিন জমজ বোনের অভাবনীয় সাফল্

13

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে যে রেকর্ড স্ব

14

রুপার দামেও বড় পতন

15

আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সহজ করতে স্ট্রাইপের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলো

16

ফিফায় ট্রাম্পের নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ: যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের

17

৯ জন ক্যাশিয়ার নেবে সুলতান’স ডাইন, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদনের স

18

হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু

19

মোদির ইসরায়েল সফর কেন গুরুত্বপূর্ণ

20