|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

শিক্ষাঝুঁকিতে দেড় লাখ রোহিঙ্গা শিশু, অন্ধকারেও আলো ছড়াচ্ছে অদম্যরা

0 শেয়ার
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লার্নিং সেন্টারে পড়াশোনারত শিশুরা।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লার্নিং সেন্টারে পড়াশোনারত শিশুরা।
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • অর্থ ও তহবিল সংকটের কারণে কক্সবাজার ও ভাসানচরের প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা শিশুর শিক্ষা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
  • ইউনিসেফ ও বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগে পজিটিভ প্যারেন্টিং এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও শিশুশ্রম ও নিরাপত্তার সংকট কাটেনি।
  • অস্ট্রেলিয়া সরকারের ১ কোটি ১৪ লাখ ডলার অনুদান এই সংকট মোকাবিলায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ ও ভাসানচরের ঘিঞ্জি শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি শিশু। আন্তর্জাতিক সহায়তার মারাত্মক ঘাটতি, দীর্ঘদিনের অপুষ্টি ও নানা সুরক্ষাজনিত সংকটের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শিশুদের জীবনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষা। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, অর্থসংকটের কারণে বর্তমানে ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অন্তত ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু যেকোনো ধরনের সহায়তাপ্রাপ্ত শিক্ষার বাইরে রয়েছে, যা একটি পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সাদপন্থীদের মামলার তদন্ত ও বিচারসহ ৫ দাবি ওলামা মাশায়েখের

ক্যাম্পের জীর্ণশীর্ণ পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক তহবিলের ঘাটতির কারণে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ছোটদের জন্য নতুন পাঠ্যবই ও শিক্ষক নির্দেশিকা কেনা সম্ভব হয়নি। ক্যাম্পের ২,০৫১টি লার্নিং ফ্যাসিলিটির মধ্যে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া কেন্দ্রগুলো মেরামতের জন্য বাজেটের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মাঝেও ৩ লাখ ২ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী শিক্ষাকার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে এবং প্রথমবারের মতো ৪৭ জন শিক্ষার্থী সফলভাবে গ্রেড-১২ শেষ করতে যাচ্ছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সহযোগিতায় ইউনিসেফ ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ১,১০০-এর বেশি রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষককে পেশাগত ট্রেনিং সার্টিফিকেট প্রদান করেছে।

রোহিঙ্গা শিশুরা বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর অন্যতম। দ্রুত আন্তর্জাতিক অর্থ না এলে শিক্ষাকেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাবে এবং একটি পুরো প্রজন্ম চিরতরে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে। - রানা ফ্লাওয়ার্স, সাবেক ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি

পজিটিভ প্যারেন্টিং ও সামাজিক পরিবর্তনের হাওয়া

শিক্ষা ও সুরক্ষার এই চরম সংকটের মাঝেও আশার আলো ছড়াচ্ছে 'পজিটিভ প্যারেন্টিং' বা ইতিবাচক অভিভাবকত্ব কার্যক্রম। জার্মান সংস্থার অর্থায়নে এবং ইউনিসেফ ও ব্র্যাক আইইডির সহযোগিতায় পরিচালিত এই সেশনগুলোর মাধ্যমে বাবা-মায়েদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করেছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পগুলোতে শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে, অপহরণ এবং সহিংসতার মতো ঝুঁকি মোকাবেলায় কেস ম্যানেজমেন্ট ও কমিউনিটিভিত্তিক কমিটিগুলো কাজ করছে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ১ কোটি ১৪ লাখ ডলারের নতুন অনুদান স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সহায়তা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল খাদ্য বা নিরাপত্তা নয়, রোহিঙ্গা শিশুদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে সব সংকটের টেকসই সমাধান নিহিত রয়েছে একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেই।

আরও পড়ুন: বিশ্বের নজরে বঙ্গোপসাগর, বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।