সংক্ষেপে মূল তথ্য
- মা বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার ঈমানের অঙ্গ।
- কুরআনের নির্দেশ আর নবীজির শিক্ষায় কেন মা বাবার খেদমত জান্নাতের সবচেয়ে সহজ পথ, জানুন।
আল্লাহর পর মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় নিয়ামত তার মা বাবা। যে মানুষ নিজের জন্মের পর থেকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পেয়েছে, তার পেছনে আছে মা বাবার রাত জাগা, কষ্ট আর দোয়া। ইসলাম তাই মা বাবার প্রতি সদ্ব্যবহারকে শুধু সামাজিক ভদ্রতা বলেনি, এটাকে ঈমানের অঙ্গ করে দিয়েছে।
কুরআনে সূরা বনি ইসরাইলে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত করো না এবং মা বাবার সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করো। লক্ষ্য করার বিষয়, আল্লাহর ইবাদতের নির্দেশের ঠিক পরেই মা বাবার কথা এসেছে। এর মানে, আল্লাহর হক আদায়ের পর সবচেয়ে বড় হক মা বাবার। তাদের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলতে বলা হয়েছে যাতে বিরক্তির আভাসও না থাকে।
মায়ের মর্যাদা ইসলামে আলাদা করে তুলে ধরা হয়েছে। প্রচলিত হাদিসের ভাবার্থে বলা হয়েছে, জান্নাত মায়ের পায়ের নিচে। এর মানে এই নয় যে মায়ের পায়ে সেজদা করতে হবে, এর মানে মায়ের সেবা আর সন্তুষ্টির ভেতর দিয়েই জান্নাতের পথ খোলে। যে মা সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেছেন, প্রসব যন্ত্রণা সয়েছেন, রাতের পর রাত জেগেছেন, তার ঋণ কোনো সন্তানই শোধ করতে পারবে না। শুধু ভালোবাসা আর সেবা দিয়ে কিছুটা হলেও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো যায়।
বাবার মর্যাদাও কম নয়। হাদিসের শিক্ষায় বলা হয়েছে, বাবার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি। বাবা হয়তো ভালোবাসা মুখে কম প্রকাশ করেন, কিন্তু পরিবারের জন্য তার পরিশ্রম আর চিন্তা কম নয়। বাবার সঙ্গে রূঢ় আচরণ করা, তাকে তুচ্ছ মনে করা, এটা শুধু অসভ্যতা নয়, এটা গুনাহের কাজ।
মা বাবা বৃদ্ধ হলে তাদের যত্ন আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়ে। তখন তারা শিশুর মতো হয়ে যান, বারবার একই কথা বলেন, অনেক কিছু ভুলে যান। এই সময় বিরক্ত হওয়া সহজ, কিন্তু ধৈর্য ধরে তাদের কথা শোনা, তাদের পাশে বসা, তাদের প্রয়োজন বোঝা, এটাই আসল পরীক্ষা। একটা ফোন কল, একটু সময়, একটা হাসিমুখ, এসব ছোট কাজই তাদের মনে অনেক শান্তি দেয়।
যাদের মা বাবা আর দুনিয়াতে নেই, তাদের জন্যও পথ বন্ধ নয়। তাদের জন্য দোয়া করা, তাদের নামে সদকা করা, তাদের বন্ধুদের সম্মান করা, এসবের মাধ্যমেও সন্তান মা বাবার হক আদায় করতে পারে। মা বাবার জন্য দোয়া কখনো বিফলে যায় না।
বাস্তব জীবনে মা বাবার সেবা মানে বড় বড় উপহার নয়। নিয়মিত খোঁজ নেওয়া, অসুস্থ হলে পাশে থাকা, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, তাদের সামনে নরম গলায় কথা বলা। ব্যস্ততার অজুহাতে মাসের পর মাস খোঁজ না নেওয়া, এটা এমন এক ক্ষতি যা পরে আফসোস করেও পূরণ হয় না।
আজই একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, মা বাবা বেঁচে থাকতে তাদের যত্ন নেব, তাদের দোয়া নেব। কারণ মা বাবার দোয়া এমন এক সম্পদ যা দুনিয়ার সব সম্পদের চেয়ে দামি, আর তাদের সেবাতেই জান্নাতের পথ সবচেয়ে সহজ।