
ঢাকা: সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য বিজয়ীদের নিয়ে জল্পনা-কল্পনা। বিভিন্ন সাহিত্য ওয়েবসাইট ও পোলিং সংস্থার জরিপে এবার কোনো নারী সাহিত্যিক এই prestigious পুরস্কারটি পেতে পারেন বলে জোরালো আলোচনা চলছে। ২০১৮ সাল থেকে নোবেল কমিটিতে লক্ষ্য করা যাওয়া একটি সুনির্দিষ্ট সমীকরণ এবং সাহিত্যিকদের লেখার বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করে এই ধারণা করা হচ্ছে।
গত কয়েক বছর ধরে নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৮ সালে পোলিশ ঔপন্যাসিক ওলগা টোকারচুক পাওয়ার পর থেকে প্রায় নিয়মিতভাবে এক বছর পুরুষ এবং পরের বছর নারী সাহিত্যিকরা এই সম্মাননা পেয়ে আসছেন। ২০১৯ সালে পিটার হান্ডকে, ২০২০ সালে লুইস গ্লুক, ২০২১ সালে আবদুলরাজাক গুরনাহ, ২০২২ সালে অ্যানি আর্নো, ২০২৩ সালে ইয়ন ফসে এবং ২০২৪ সালে লাজলো ক্রাজনাহরকাই এই পুরস্কার লাভ করেন। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ২০২৫ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার কোনো নারী লেখকের ঝুলিতে যাওয়ার সম্ভাবনাই সর্বাধিক।
বিশ্লেষক ও সাহিত্য সমালোচকদের মতে, নোবেল কমিটিতে ইউরোকেন্দ্রিকতা ও পুরুষপ্রধান দৃষ্টিভঙ্গি দূর করার জন্য কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে নারী লেখকদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সাহিত্য বিশ্লেষক ডেভিড ব্রাউন বলেন,
সাহিত্যে জেন্ডার ক্যাটাগরি বিশ্লেষণ করার মূল উদ্দেশ্য হলো নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজে যেন কোনো গুণী নারী সাহিত্যিক উপেক্ষিত না হন, তা দেখা।
এবারের নোবেল দৌড়ে নারীদের মধ্যে যাদের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তাদের মধ্যে কানাডার অ্যান কার্সন, জাপানের হিরোমি ইতো, জিম্বাবুয়ের টিটসি ডাঙ্গারেমবগা এবং মেক্সিকোর ক্রিস্টিনা রিভেরা গারজা অন্যতম। এর মধ্যে মেক্সিকোর প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ক্রিস্টিনা রিভেরা গারজা আন্তর্জাতিক সাহিত্য মহলে দারুণভাবে আলোচনায় রয়েছেন। ২০২৪ সালে তিনি তাঁর ‘লিলিয়ানাস ইনভিন্সিবল সামার’ স্মৃতিকথার জন্য মর্যাদাপূর্ণ পুলিৎজার পুরস্কার অর্জন করেন, যা নারীনিধন ও বিচারহীনতার মতো গুরুতর সামাজিক ইস্যু তুলে ধরেছে।
ঐতিহাসিকভাবে নোবেল পুরস্কারজয়ী লেখকদের মধ্যে নারী প্রতিনিধিত্ব কম থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই চিত্রে পরিবর্তন আসছে। ১৯০১ সাল থেকে শুরু হওয়া এই পুরস্কারের ইতিহাসে ১৮ জন নারী লেখক এই সম্মান অর্জন করেছেন। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এবং সাহিত্যিক বৈচিত্র্য বজায় রাখার স্বার্থে নোবেল কমিটি ঐতিহাসিক পক্ষপাত দূর করতে সচেষ্ট রয়েছে। ফলে সমস্ত সমীকরণ মিলিয়ে এবারের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার কোনো নারী লেখকের প্রাপ্তির মধ্য দিয়েই পূর্ণতা পাবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।