|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

দিল্লিতে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিশাল বিক্ষোভ, আটক আড়াই হাজার

0 শেয়ার
দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় পুলিশের অবস্থান ও আন্দোলনকারীদের জমায়েত
দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় পুলিশের অবস্থান ও আন্দোলনকারীদের জমায়েত
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • ভোটার তালিকা থেকে নাম বাতিলের প্রতিবাদে ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বিশাল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
  • পুলিশ অন্তত আড়াই হাজার বিক্ষোভকারী ও ১৫ জন সাংবাদিককে আটক করে।
  • মোদির রাজনৈতিক অবস্থান ও ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।

ভারতের ভোটার তালিকা থেকে নাম ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ১০ অক্টোবর দিল্লিতে এক বিশাল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) ডাকে আয়োজিত এই সমাবেশে অংশ নেওয়া হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে হটাতে পুলিশ ব্যারিকেড ও কঠোর বলপ্রয়োগ করে। দিনভর চলা এই সংঘর্ষে রাজধানী দিল্লি থেকে অন্তত ২ হাজার ৫০০ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৫ জন সাংবাদিককে সাময়িকভাবে আটক করা হয়। মোদি সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ ও আমলাতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের তরুণ সমাজ আজ রাজপথে সোচ্চার হয়ে উঠেছে।

ভোট চুরির পর এবার বিক্ষোভস্থলও চুরি করছে মোদি সরকার: ইন্ডিয়া জোট

বিশ্লেষকদের মতে, গত ১২ ধরে চলা ছোট ছোট অনিয়ম ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে আজকের এই আন্দোলনে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের নামে পরিচালিত বিশেষ নিবিড় পুনর্বিন্যাস (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ১৩ কোটি ভারতীয় নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া কেবল নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি হাতিয়ার। এর আগে গত শুক্রবার রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংসের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা দিয়েছে।

বিক্ষোভ দমনে প্রশাসন ব্যাপক দমনপীড়ন চালালেও আন্দোলনকারীরা তা উপেক্ষা করেই রাজপথে অনড় অবস্থান নেন। সমাবেশের আগেই সিজিপির শীর্ষ মুখ রত্না সিং, অভিজিৎ দিপকে, ধ্রুব রাঠি এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার Gandhí সহ বেশ কয়েকজন অধিকারকর্মীকে আটক করা হয়। তা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা দমে যাননি। এক জায়গা থেকে হটিয়ে দেওয়া হলে তাঁরা অন্য স্থানে জড়ো হয়েছেন। বিরোধী দলগুলোর এই ঐক্য এবং তরুণ প্রজন্মের এই অভ্যুত্থান নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

মোদি শাসনের সংকট ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘ শাসনকালজুড়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের মতে, বর্তমান প্রশাসন কেবল সমাজকে বিভক্ত করার কৌশলেই আস্থা রেখেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর মিলছে না। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন যে এই আন্দোলন কেবল একটি সূচনা পর্ব এবং আগামী দিনে এর পরিধি আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন: নতুন পদ পাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন-হাসনাত-আসিফ ও সারজিস

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দিল্লির রাজপথে তরুণদের এই ক্ষোভ ও অবাধ্যতা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে দমনপীড়ন চালিয়ে দীর্ঘকাল জনমত দাবিয়ে রাখা যায় না। মোদি সরকারের এই অতিরিক্ত শক্তিপ্রয়োগ শেষ পর্যন্ত তাঁদের রাজনৈতিক পতনকেই ত্বরান্বিত করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।