
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (ডিএইচএস) ৪১ হাজারের বেশি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংবেদনশীল তথ্য হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে ফাঁস হয়েছে। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এই তথ্যের মধ্যে অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তায় নিয়োজিত হাজারো কর্মকর্তার নাম, কর্মস্থলের ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং তাদের দায়িত্বের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। মার্কিন সরকারি সংস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে এটি বড় ধরনের সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ফাঁস হওয়া তথ্যের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের (সিবিপি) বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে ২১ হাজারের বেশি সিবিপিতে এবং প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন আইসিইতে কর্মরত। এ ছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ফেডারেল প্রোটেকটিভ সার্ভিস এবং সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির সংবেদনশীল তথ্যও এই ফাঁসের আওতায় পড়েছে। তথ্যভান্ডারে আগে প্রকাশ্যে না আসা গোপন অভিযানের নাম এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তির বিবরণও রয়েছে।
ডিএইচএসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত রয়েছেন এবং পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় কাজ চলছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, ডিপার্টমেন্ট অব পিস নামের একটি গোষ্ঠী ডিএইচএসের তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করে এসব তথ্য সংগ্রহ করে। পরে সাংবাদিক ও সাইবার নিরাপত্তা গবেষক এবং তথ্য ফাঁসসংক্রান্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আইসপিক নামের একটি ডেটাবেজে তা প্রকাশ করা হয়। ডিডোসিক্রেটসের সহপ্রতিষ্ঠাতা এমা বেস্ট জানিয়েছেন, সব ডিএইচএস কর্মকর্তার তালিকা প্রকাশ করা এই তথ্য ফাঁসের উদ্দেশ্য নয়, বরং গোপন অভিযানের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা এর মূল লক্ষ্য। ওকটা নামের একটি সিঙ্গেল সাইন-অন সেবার মাধ্যমে এই অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা সুরক্ষিত রয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থায় এটি তৃতীয় তথ্য ফাঁসের ঘটনা। এর আগে এফবিআইয়ের হাজারো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন সরকারি তথ্যভান্ডারের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং সাইবার সুরক্ষার পরিধি বাড়াতে কাজ করছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।