
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনটি এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে ঘিরে রিপাবলিকান শিবিরের আক্রমণ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে ধর্মীয় পরিচয় ও বর্ণবাদের বিতর্ক উসকে দিয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে মিশিগানের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে গত ২৫ অক্টোবর মিশিগানের এক সমাবেশে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সাইয়েদকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এল-সাইয়েদকে জিহাদি হিসেবে আখ্যায়িত করার পাশাপাশি মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তার সংযোগ থাকার অভিযোগ তোলেন। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এর আগে মিশিগানের জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এল-সাইয়েদ সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো তার প্রচারণায় গুরুত্ব দিচ্ছেন।
"আমার দেশপ্রেম এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমার আনুগত্য নিয়ে এভাবে প্রশ্ন তোলা সম্পূর্ণ লজ্জাজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত," বলেন ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ।
রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকস ও মারিস্ট ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সাইয়েদ প্রায় ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ সমর্থন পেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ৪৬ শতাংশ সমর্থন। তাছাড়া মারিস্ট ইউনিভার্সিটির জরিপেও এল-সাইয়েদের পক্ষে ৫০ শতাংশ সমর্থন পাওয়া গেছে। তবে শেষ মুহূর্তের ভোটার উপস্থিতি এবং অনির্ধারিত ভোটাররাই মূলত চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম আমেরিকান রাজনীতিকদের বারবার জাতীয় নিরাপত্তা ও আনুগত্যের প্রশ্নে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর এই প্রবণতা মার্কিন সমাজের বহুত্ববাদ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বারাক ওবামা ও বার্নি স্যান্ডার্সের মতো প্রগতিশীল নেতারা এই ধরনের পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত মিশিগানের ভোটাররা অর্থনৈতিক সংকট ও নীতিগত ইস্যুকে প্রাধান্য দেবেন, নাকি ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে, তা দেখার জন্য আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।