
ঢাকা: সীমান্তের ওপার থেকে ইশারায় কেউ দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত তথা গার্মেন্টস শিল্পে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পোশাকশিল্পের মালিক ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনও উপস্থিত ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে কিছু মহলের ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে সরকারের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, পোশাক খাতের বর্তমান অস্থিরতা ও এর পেছনের কারণগুলো নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই খাতে সম্ভাব্য অস্থিরতা বা সংকট তৈরি হতে পারে সে বিষয়ে অনেক আগেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল এবং সে অনুযায়ী গত মাসের ১৮ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শ্রম মন্ত্রণালয়ে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে পোশাক কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বহিরাগত কোনো চক্র যেন শ্রম অসন্তোষকে ব্যবহার করে নাশকতা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
সীমান্তের ওপার থেকে ইশারায় কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে। যারা এ ধরনের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের অবিলম্বে এসব অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার কঠোর আহ্বান জানাচ্ছি। - স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। ন্যূনতম মাসিক বেতন-ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের জোরালো দাবিতে সোমবারও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যান পোশাকশ্রমিকরা। সকাল সাড়ে আটটার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসেন এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় বিক্ষিপ্ত ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। অন্যদিকে, সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে আগুন
সার্বিক এই পরিস্থিতিতে সরকার ও মালিকপক্ষ যৌথভাবে শ্রমিকদের নায্য দাবিগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে যারা শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদহানি ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে, তাদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও পোশাক শিল্পাঞ্চলগুলোতে নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে যাতে কোনো কুচক্রী মহল দেশের অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করতে না পারে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।