|
ঢাকা স্টোরি
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: মেয়ের লাশ দেশে আনার আকুতি মা-বাবার

0 শেয়ার
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিহত সুইটি আক্তারের বাড়িতে শোকাহত পরিবারের সদস্যরা।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিহত সুইটি আক্তারের বাড়িতে শোকাহত পরিবারের সদস্যরা।
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নারী সুইটির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
  • মৃত্যুর আগের দিন সন্ধ্যায়ও বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন তিনি।
  • পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে যাওয়ার পর ২০২৩ সালে গ্রেপ্তার হন সুইটি।

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নারী সুইটি আক্তারের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছেন তার শোকাহত মা-বাবা। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের বাসিন্দা সুইটি দেশটিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং গত ১৪ অক্টোবর সৌদি প্রেস এজেন্সির মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি প্রকাশ পায়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগের দিন সন্ধ্যায়ও তিনি পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন।

সাজেক ভ্যালি ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা, ছাড়তে হবে বৃহস্পতিবারের মধ্যে

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দরিদ্রতা দূর করার এবং মেয়ের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে একটি এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যান সুইটি আক্তার। তিনি ফজল মিয়া ও জহুরা বেগমের পাঁচ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। দেশটিতে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর সহকর্মীদের সঙ্গে একটি গাড়ি কেনাবেচার ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পরিবারকে জানিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ দিন যোগাযোগ বন্ধ থাকার পর কারাবন্দী থাকা অবস্থায় গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে শেষবারের মতো ফোনে কথা বলেন সুইটি।

সুইটির বাবা ফজল মিয়া জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায় মেয়ের সঙ্গে মাঝেমধ্যে কথা হতো। সর্বশেষ ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কথা বলার সময়ও সুইটি নিজের বিচার বা আসন্ন মৃত্যুদণ্ড সম্পর্কে কোনো কিছু জানাননি। পরদিন ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, মক্কা অঞ্চলের একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সুইটি আক্তার ও নজরুল ইসলাম নামের দুই বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
সৌদি থাইকা আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ কথা বলেন সুইটির মা জহুরা বেগম।

নিহত সুইটির পরিবার ও আইনি জটিলতা

স্বজনদের দাবি, সুইটি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন এবং বিষয়টি যথাযথভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে মায়ের মৃত্যুর পর সুইটির নয় বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে, যে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে, তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিবারের এখন একটাই চাওয়া, অন্তত মেয়ের মরদেহ যেন শেষবারের মতো দেখার জন্য দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

আরও পড়ুন: সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: মৃত্যুর আগের দিন বাবার সঙ্গে কথা হয় সুইটির

বর্তমানে পুরো পরিবার ও স্বজনরা সরকারের কূটনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে সুইটি আক্তারের মরদেহ দ্রুত নিজ গ্রামে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। প্রবাসে গিয়ে আইনি সহায়তা ও বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠলেও পরিবার এখন কেবল শেষবারের মতো মেয়ের মুখ দেখার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।