|
ঢাকা স্টোরি
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

দক্ষিণ এশিয়ায় এলপিজির দামে শীর্ষে বাংলাদেশ, পুড়ছে মধ্যবিত্তের পকেট

0 শেয়ার
রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডার। ফাইল ছবি
রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডার। ফাইল ছবি
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • দক্ষিণ এশিয়ায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দামে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।
  • বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে হচ্ছে রেকর্ড ২০৬০ টাকায়।
  • দুর্বল বাজার তদারকি ও আমদানিকারকদের সিন্ডিকেটকে এর জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে রান্নার কাজে ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দামে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর বাজারচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ অঞ্চলে রান্নার গ্যাসে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এ দেশের সাধারণ ভোক্তাদের। রেকর্ড এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের যাঁতাকলে পড়ে দেশের সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্তের পরিবারগুলোর বাজেটে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

চার দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার তথ্য গুজব: পেট্রোবাংলা

আঞ্চলিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য পৌঁছাল রেকর্ড ২০৬০ টাকায়। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানে এই সমপরিমাণ সিলিন্ডারের দাম ১৪৮৮ টাকা। এছাড়া দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা ও হিমালয় কন্যা নেপালে প্রতি ১২ কেজি এলপিজির দাম রাখা হচ্ছে ১৩৯২ টাকা। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতার বাজারে এলপিজির দাম এ অঞ্চলে সবচেয়ে কম, যেখানে ১২ কেজি সমমানের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০৮৮ টাকায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও তার সুফল দেশের ভোক্তারা পাচ্ছেন না, আবার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সাথে সাথে বিইআরসিও দেশে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া সরকারিভাবে এলপিজির যে দাম নির্ধারণ করা হয়, তা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে; খুচরা বাজারে সেই নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। - এম শামসুল আলম, সিনিয়র সহসভাপতি, ক্যাব

বাজার তদারকির অভাব ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দেওয়া হলেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে মূল্যের এই আকাশ-পাতাল ব্যবধান দেশের বাজারে দুর্বল তদারকি ও আমদানিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ভঙ্গুর চিত্রটিই স্পষ্ট করে তুলছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সিনিয়র সহসভাপতি এম শামসুল আলম সম্প্রতি এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকির চরম অভাব এবং নির্দিষ্ট কিছু আমদানিকারকদের সিন্ডিকেটের কারণেই আজ সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত মূল্যে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। সরকারি মূল্য নির্ধারণ শুধু কাগজে-কলমে থাকলেও খুচরা বাজারে তার কোনো কার্যকারিতা দেখা যায় না।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এলপিজি গ্যাসের এই অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধির ফলে খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে শহুরে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এমনিতেই মূল্যস্ফীতির চাপ রয়েছে, তার ওপর রান্নার গ্যাসের এমন উচ্চমূল্য পারিবারিক সঞ্চয়ে বড় ধরনের ধাক্কা দিচ্ছে। সাধারণ ভোক্তারা অবিলম্বে আন্তর্জাতিক দর ও প্রতিবেশী দেশগুলোর বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির দাম পুনর্বিবেচনা এবং কঠোর বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।