
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ত্রিশ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে টানা দুই দিনের বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনায় চার থানায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে মোট সাড়ে দশ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার দুপুরে মিরপুর মডেল ও পল্লবী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রথম থেকেই এআই ও সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন নীতি মেনে এই প্রতিবেদনে ঘটনার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে গত শনি ও রোববার টানা দুই দিন মিরপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। রোববার আন্দোলন চলাকালে মিরপুর ১০ ও ১১ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর এবং পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিপেটা, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এই সহিংসতায় ওই এলাকায় কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে এবং সাময়িকভাবে কয়েকটি মেট্রোস্টেশনের কার্যক্রমও স্থগিত রাখা হয়েছিল।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে যেখানে তিন হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন জানান, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিনটি মামলা রুজু হয়েছে এবং প্রতিটি মামলায় দুই থেকে আড়াই হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
গোয়েন্দা ও ডিবি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে মিরপুরে বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। অনলাইনে নির্দিষ্ট গ্রুপের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে মিরপুরে জড়ো হয়েছিল তারা। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে অন্তত এগারোজন নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ, যারা মূলত পোশাক কারখানার শ্রমিক নন। সাধারণ শ্রমিকদের এই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বর্তমানে মিরপুর জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত বাকি আসামিদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ শ্রমিকদের হয়রানি না করে সুনির্দিষ্ট ভিডিও ফুটেজ ও প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।