|
ঢাকা স্টোরি
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

মিরপুরে পোশাক শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ: ৪ মামলায় সাড়ে ১০ আসামি

0 শেয়ার
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ফাইল ছবি।
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ফাইল ছবি।
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মিরপুরে টানা বিক্ষোভ হয়েছে।
  • সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
  • এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে টানা দুই দিনের বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনায় মোট চারটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এসব মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবার মিরপুর মডেল এবং পল্লবী থানায় এসব মামলা রুজু হয়। গত রবিবার ও সোমবার মিরপুর এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল।

বাংলাদেশ ও কোরিয়ার যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত

ঘটনার সূত্রপাত হয় রবিবার সকাল থেকে, যখন মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। আন্দোলনকারীরা ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি জানান। এরপর সোমবার সকালেও মিরপুর-১০ ও সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়াধাওয়ির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর করা হয়, যার ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং কয়েকটি মেট্রোস্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে যেখানে তিন হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোলাল উদ্দিন জানান, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হামলা ও সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে পল্লবী থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার করে মোট সাড়ে সাত হাজারের মতো অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নাশকতার নেপথ্যে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও ডিবির তদন্ত

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ শ্রমিকদের এই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মী অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে শ্রমিকদের এই অসন্তোষকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। মিরপুরে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন এবং তারা বিভিন্ন জেলা থেকে এসে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত বাকি ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে মিরপুর এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট পর্যালোচনা করে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সাধারণ শ্রমিকদের হয়রানি না করে কেবল সহিংসতা ও নাশকতার সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পোশাক কারখানা মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রশাসনের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।