
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার টোকিওতে আয়োজিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে বাংলাদেশের পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি এই প্রস্তাব দেন।
প্রধানমন্ত্রী যে পাঁচটি খাতকে বিনিয়োগের জন্য অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, সেগুলো হলো- মোটরযান উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা, রেলপথ ও সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কাজ করছে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।
পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির জন্য আমি জাপানি কোম্পানিগুলোকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাত বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
বিনিয়োগের অগ্রাধিকার ও কৌশলগত পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি মাসের শুরুর দিকে টয়োটা বাংলাদেশে যানবাহন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে, যা ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবে। এছাড়া জ্বালানি খাতে এলএনজি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং প্রযুক্তি খাতে এআই ও রোবোটিকস ভিত্তিক উদ্ভাবনমুখী পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। রেলপথের উন্নয়নে জাপানি কারিগরি ও বিনিয়োগ সহায়তাকে স্বাগত জানান তিনি।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮ কোটির বেশি মানুষের বাজার এবং তরুণ শ্রমশক্তি বাংলাদেশের বড় সম্পদ। আড়াইহাজারে অবস্থিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানি বিনিয়োগের জন্য তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এই চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।