
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তরার একটি বার থেকে শুরু করে টঙ্গীর তুরাগ নদ পর্যন্ত গত কয়েক ঘণ্টার গতিপ্রহণ ও রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট ও বারে সময় কাটানোর পর টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় গিয়ে ধাওয়ার মুখে তুরাগ নদে ঝাঁপ দিয়ে তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার নেপথ্যের কারণ এবং বন্ধু ও বান্ধবীর অসংলগ্ন বক্তব্য নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২৭ অক্টোবর রাতে। উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশা ও বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে নিয়ে প্রবেশ করেন তাহসিফ সাউরি। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বারে বসে তিনি বেশ কিছু অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় গ্রহণ করেন এবং বান্ধবী দিশার সঙ্গে তার মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন ও মনোমালিন্য চলছিল। দীর্ঘ সময় সেখানে কাটিয়ে রাত ১১টা ৫১ মিনিটে তারা রেস্টুরেন্ট থেকে বের হন এবং মোটরসাইকেলে করে সরাসরি টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় চলে যান।
তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়ে বন্ধু দীপ দাবি করেছেন যে, বস্তি এলাকায় পৌঁছানোর পর কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তাদের উচ্চ স্বরে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে অপরিচিত ব্যক্তিরা তাদের ধাওয়া করলে প্রাণ বাঁচাতে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। অন্যদিকে দীপ নিজে একটি পিলারের আড়ালে আত্মগোপন করেন। তবে এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ বলছে, বন্ধু বিপদে পড়ার পরও কেন দীপ তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি এবং কেন তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানাননি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই পুরো ঘটনার তদন্তে এখন মূলত তিনটি স্থানকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো উত্তরার নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার, টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এবং তুরাগ নদ। ইতিমধ্যে বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দীপের দেওয়া আগের ও বর্তমান বক্তব্যের মধ্যে কোনো অমিল রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে। নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে।
তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা তার মরদেহ থেকে রক্ত, পাকস্থলী, কিডনি ও ভিসেরার নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী এটি পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা হতে পারে, তবে পূর্ণাঙ্গ রাসায়নিক ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।