
সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে মুক্তা, পুঁতি, পাটের আঁশ এবং তিল, কিশমিশের মতো ব্যতিক্রমী উপকরণ দিয়ে দুর্গাপ্রতিমা সাজানো হলেও অগ্নিঝুঁকির কারণে একটি মণ্ডপে দেশলাই কাঠির সাজ পরিবর্তন করতে হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দিরে দেড় লাখের বেশি দেশলাইয়ের কাঠি ও রেশমি সুতায় প্রতিমা সাজানো হয়েছিল, যা ভক্তদের নজর কেড়েছিল। তবে অগ্নিঝুঁকির আশঙ্কায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে কাঠির পরিবর্তে এখন তিল ও কিশমিশ বসানোর কাজ চলছে।
চলতি শারদীয় দুর্গোৎসবে সাতক্ষীরার বিভিন্ন মণ্ডপে প্রচলিত উপকরণের বাইরে গিয়ে সৃজনশীল প্রতিমা তৈরির হিড়িক পড়েছে। আশাশুনি উপজেলার বুড়িয়া সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে ৩৫ হাজার মুক্তা, পুঁতিতে সাজানো হয়েছে ১৩টি প্রতিমা। অন্যদিকে পাটকেলঘাটার কেশবলাল ঘোষ মহাশ্মশানে প্রথমবারের মতো আয়োজিত পূজায় পাঁচ মণের বেশি পাটের আঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দুর্গা প্রতিমা, যা সোনালি ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলেছে। এছাড়া কলারোয়া পৌরসভার উত্তর মুরারীকাটি পালপাড়া পূজামণ্ডপে ২৫ কেজি সাদা তিল দিয়ে ১৬টি প্রতিমা সাজানো হয়েছে।
প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানান, এত অল্প সময়ে নতুন সাজ তৈরি করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। ৪০ কেজি তিল, ১০ কেজি কিশমিশ ও ১০ জন কারিগর নিয়ে তিনি দ্রুত কাজ সম্পন্ন করছেন। আয়োজক কমিটির সদস্য দেবদাস কর্মকার বলেন, সোনালি আঁশ পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্য, যা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ জানান, এই বৈচিত্র্যময় সাজ উৎসবের আকর্ষণ ও স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পূজাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম জানান, এ বছর জেলাজুড়ে মোট ৬১০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুলিশ নিয়মিত মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করছে এবং আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বিশেষ করে ব্যতিক্রমী উপকরণের মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্গোৎসব শুরু হবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।