সংক্ষেপে মূল তথ্য
- সৌদি আরবের দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন।
- একই দিনে শায়বাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন নেপালি ও ফিলিপিনো দুই কর্মী।
- সৌদি থেকে দূতাবাসের কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) গভীর রাতে চালানো এই হামলায় একজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও আটজন। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জেনারেল অথরিটি অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (জিএসিএ) হতাহতের এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জিএসিএ জানিয়েছে, আহতদের আঘাত হালকা থেকে গুরুতর পর্যায়ের। তাদের সবাইকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলায় বিমানবন্দরের বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে, তা মূল্যায়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে হামলাটি কীভাবে চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দরে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই বুধবার আরেকটি প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর শায়বাহ তেলক্ষেত্রের একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু সেই ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে দুজন নিহত হন। নিহতদের একজন নেপালের এবং অপরজন ফিলিপাইনের নাগরিক। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সেদিন মোট পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি দেখে যুক্তরাষ্ট্র বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের অপ্রয়োজনীয় কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। হুথিদের হামলা বাড়তে থাকায় সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই সিদ্ধান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। চলতি মাসের ১০ ও ১১ অক্টোবর রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। দাম্মামের এই হামলা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এসব হামলা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে।
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জ্বালানি রপ্তানিকারক অঞ্চলের বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্রে একের পর এক হামলায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার পর ফ্লাইট পরিচালনা ও যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মূল্যায়ন শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।