|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

দূরে থাকলেও বন্ধুত্ব টিকে থাকে, সম্পর্ক ধরে রাখার সহজ কিছু উপায়

0 শেয়ার
দূরে থাকলেও বন্ধুত্ব টিকে থাকে, সম্পর্ক ধরে রাখার সহজ কিছু উপায়
দূরে থাকলেও বন্ধুত্ব টিকে থাকে, সম্পর্ক ধরে রাখার সহজ কিছু উপায়
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • দূরের বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখুন সহজ কিছু অভ্যাসে।
  • নিয়মিত খোঁজখবর, ছোট উপহার ও দেখা করার পরিকল্পনায় বন্ধুত্ব থাকবে অটুট।
পড়াশোনা বা চাকরির সূত্রে বন্ধুরা ছড়িয়ে পড়ে দেশ-বিদেশে। একসময়ের প্রতিদিনের আড্ডা বদলে যায় বছরে এক-দুবারের ফোনালাপে। তারপর একদিন দেখা যায়, খুব কাছের বন্ধুর সঙ্গেও কথা হয় না মাসের পর মাস। দূরত্ব সম্পর্ক শেষ করে দেয় না, শেষ করে দেয় অবহেলা আর যোগাযোগের অভাব।

                                        
                                                                                    
গর্ভবতী স্ত্রীর পাশে স্বামীর ভূমিকা যেমন হওয়া উচিত
বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া। প্রতিদিন কথা বলার দরকার নেই, সপ্তাহে একবার ফোন বা বার্তাই যথেষ্ট। বন্ধুর জন্মদিন আর বিশেষ দিনগুলো মনে রাখুন। একটা ছোট শুভেচ্ছা বার্তাও জানিয়ে দেয়, আপনি তাকে ভোলেননি। ব্যস্ততার অজুহাতে মাসের পর মাস চুপ থাকলে সম্পর্কের সুতো আলগা হয়ে যায়। ফোনে লম্বা কথা বলার সময় না থাকলে ছোট্ট একটা ভয়েস মেসেজ পাঠান। নিজের দিনের একটা মজার ঘটনা শেয়ার করুন। এই ছোট ছোট যোগাযোগই সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখে। মাঝে মাঝে অপ্রত্যাশিত কিছু করুন। হঠাৎ একদিন ফোন করে পুরনো দিনের গল্প তুলুন। বন্ধুর পছন্দের কোনো ছোট উপহার পাঠিয়ে দিন। দূরে থাকা বন্ধুর জন্য হাতে লেখা চিঠি এখনো দারুণ চমক। বন্ধুর প্রিয় খাবার বা বইয়ের কথা মনে থাকলে সেটা পাঠিয়ে দিন। এই ছোট ছোট উদ্যোগ বন্ধুত্বে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে, মনে করিয়ে দেয় পুরনো দিনের কথা। উপহারের দাম বড় কথা নয়, মনে রাখাটাই আসল।
বিজ্ঞাপন
Advertisement
দেখা করার পরিকল্পনা করুন। সবাই মিলে বছরে একবার কোথাও ঘুরতে যাওয়া বা কারো বাড়িতে জমায়েতের আয়োজন করুন। একটা নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক থাকলে সবাই সেভাবেই প্রস্তুতি নেয়। ঈদ বা পুজোর ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে সবাই জড়ো হওয়ার রেওয়াজটা ধরে রাখুন। দেখা না হলেও ভিডিও কলে আড্ডার আয়োজন করা যায়। মাসে একবার নির্দিষ্ট দিনে ভিডিও কলে চা খেতে খেতে আড্ডা দিন। দূরত্ব এখন আর বাধা নয়, ইচ্ছাটাই আসল। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বন্ধুত্বের ধরন বদলায়, এটা মেনে নিন। বিয়ের পর বা সন্তান হওয়ার পর বন্ধুর ব্যস্ততা বাড়ে, আগের মতো সময় দিতে পারে না। এতে মন খারাপ না করে পরিস্থিতি বুঝুন। নতুন মা হওয়া বন্ধুকে ফোনে লম্বা আড্ডার বদলে ছোট বার্তায় উৎসাহ দিন। চাকরির চাপে থাকা বন্ধুকে শুধু জানিয়ে রাখুন, আপনি পাশে আছেন। সময় বদলালেও আন্তরিকতা ধরে রাখা যায়। মনে রাখবেন, বন্ধুত্বে হিসাব চলে না। কে আগে ফোন করল, কে বেশি খোঁজ নিল, এই হিসাব করতে গেলেই সম্পর্ক ভারী হয়। কখনো আপনিই এগিয়ে যান, কখনো বন্ধু এগিয়ে আসবে। এই দেওয়া-নেওয়ার মধ্যেই বন্ধুত্ব বেঁচে থাকে বছরের পর বছর, দূরত্ব যতই হোক না কেন। তবে একতরফা চেষ্টা দীর্ঘদিন চললে ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে সরাসরি কথা বলুন, মনের কথা খুলে বলুন। সত্যিকারের বন্ধু বুঝবে।
বিজ্ঞাপন
Advertisement
বন্ধুর কঠিন সময়ে পাশে থাকুন, এটাই বন্ধুত্বের আসল পরীক্ষা। অসুস্থতা, চাকরি হারানো বা পারিবারিক সমস্যায় দূর থেকে হলেও নিয়মিত খোঁজ নিন। প্রয়োজনে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন, না পারলে অন্তত মানসিক সমর্থন দিন। সুখের দিনে অভিনন্দন জানানোটা সহজ, দুঃখের দিনে পাশে থাকাটাই কঠিন আর মূল্যবান। এই সময়ের স্মৃতি বন্ধুত্বকে আরও মজবুত করে। পুরনো বন্ধুদের নিয়ে একটা ছোট গ্রুপ খুলতে পারেন। সেখানে মাঝে মাঝে পুরনো ছবি শেয়ার করুন, স্মৃতিচারণ করুন। কারো সাফল্যে অভিনন্দন জানান, বিপদে পাশে থাকার আশ্বাস দিন। বন্ধুর পরিবারের খোঁজ নিন, তার সন্তানদের নাম মনে রাখুন। ছোট্ট একটা নোটবুকে বন্ধুদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিখে রাখতে পারেন, জন্মদিন, সন্তানের নাম, পছন্দের জিনিস। এই আন্তরিকতাই সম্পর্ককে গভীর করে। হারিয়ে যাওয়া বন্ধুত্ব ফিরিয়ে আনতেও দেরি হয়নি। বহু বছর কথা না হওয়া বন্ধুকে একটা সহজ বার্তা পাঠান। পুরনো ছবি শেয়ার করে লিখুন, আজ তোমার কথা মনে পড়ল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওপাশ থেকে উষ্ণ সাড়া আসে। ইগোর কারণে অনেক সুন্দর সম্পর্ক নষ্ট হয়। প্রথম পদক্ষেপটা আপনিই নিন, হারানোর কিছু নেই। ভার্চুয়াল আড্ডাকে মজাদার করতে কিছু কৌশল কাজে লাগান। একসঙ্গে একই সিনেমা দেখে আলোচনা করুন, অনলাইনে গেম খেলুন, বা একই রেসিপি রান্না করে ছবি শেয়ার করুন। বই পড়ার গ্রুপ বানিয়ে প্রতি মাসে একটা বই নিয়ে আলোচনা করুন। এই ধরনের যৌথ কাজ দূরত্ব ভুলিয়ে দেয়। শুধু কেমন আছো জিজ্ঞেস করার চেয়ে একসঙ্গে কিছু করলে সম্পর্ক আরও প্রাণবন্ত থাকে। কয়েকটা ভুল এড়িয়ে চলুন। শুধু প্রয়োজনের সময় ফোন করা বন্ধুত্বের জন্য ক্ষতিকর। বন্ধু বুঝতে পারে কখন তাকে শুধু কাজে লাগানো হচ্ছে। আরেকটা ভুল হলো সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক-কমেন্টকেই যোগাযোগ ভাবা। একটা ফোন কলের আন্তরিকতা শত লাইকের চেয়ে দামি। তৃতীয় ভুল, বন্ধুর সাফল্যে ঈর্ষা করা। তার আনন্দে সত্যিকারের খুশি হোন, এই উদারতাই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে। দূরে থাকা মানেই দূরে সরে যাওয়া নয়। একটু যত্ন নিলেই বছরের পর বছর টিকে থাকে বন্ধুত্ব, আর প্রয়োজনের সময় এই বন্ধুরাই সবার আগে এগিয়ে আসে। বন্ধুত্ব হলো জীবনের সেই সম্পদ, যা টাকা দিয়ে কেনা যায় না, শুধু যত্ন দিয়ে টিকিয়ে রাখা যায়। আজই ফোনটা হাতে নিন, বহুদিন কথা না হওয়া সেই বন্ধুকে একটা বার্তা পাঠান। দেখবেন, মনটা কত হালকা লাগে।
Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।