
বাংলাদেশ সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা অনুমোদনের জন্য আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (সুমন) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানান্তরের মূল কার্যক্রম শুরু হবে।
সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে অতীতে একটি মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছিল, যার ভিত্তিতেই বর্তমান প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, বর্তমান সচিবালয়ের ভবনগুলো ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত হওয়ায় সেগুলো বেশ পুরোনো হয়ে গেছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত গাড়ির পার্কিং ও স্থান সংকটের কারণে দাপ্তরিক কাজে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অনেকগুলো মন্ত্রণালয়ের দপ্তর মূল ভবনের বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় প্রশাসনিক সমন্বয় বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব উত্থাপিত হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গেলে বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই নির্মাণ ও স্থানান্তরের সমস্ত প্রাথমিক ও মূল কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। - জাকারিয়া তাহের, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী।
বর্তমান সচিবালয়ের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, ভূমিকম্পসহ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান ভবনগুলোর মেরামত ও স্থায়ী বিকল্প খোঁজা এখন সময়ের দাবি। প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা ও নির্দেশনার আলোকে আগারগাঁওয়ে নতুন স্থানে সচিবালয় পুরোপুরি স্থানান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
প্রস্তাবিত এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়বে এবং সরকারি দপ্তরের বিকেন্দ্রীকরণ সহজতর হবে। মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা ও নির্মাণকাজের সময়সীমা চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।